গাইনী সমস্যা

জরায়ুর ফাইব্রয়েড: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

জরায়ুর ফাইব্রয়েড: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা
লেখক: ডাঃ জেবুন্নেসা জেবু ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ মিনিট পড়া মেডিকেলি রিভিউড: ডাঃ জেবুন্নেসা জেবু

জরায়ুর ফাইব্রয়েড নির্ণয় হওয়ার পর অনেকেই ভয় পেয়ে যান, ক্যান্সার ভেবে। ভালো খবর হলো — ফাইব্রয়েড প্রায় সবসময়ই একটা সৌম্য (non-cancerous) টিউমার, এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজনই হয় না।

ফাইব্রয়েড কী?

জরায়ুর পেশী টিস্যু থেকে তৈরি হওয়া একটা সৌম্য (benign) টিউমার, যা জরায়ুর ভেতরে, দেয়ালে বা বাইরের দিকে হতে পারে। আকারে এটা একটা ছোট মটরদানার মতোও হতে পারে, আবার বড় হয়ে তরমুজের মতো আকারও নিতে পারে।

কতটা সাধারণ?

প্রজনন বয়সের নারীদের একটা বড় অংশের মধ্যে ফাইব্রয়েড থাকে — অনেকেরই কোনো লক্ষণ থাকে না, তাই না জেনেই থাকে।

লক্ষণ কী কী

  • অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী মাসিক রক্তস্রাব
  • তলপেটে ভারী ভাব বা চাপ অনুভব করা
  • ঘনঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন (মূত্রথলিতে চাপ পড়লে)
  • কোমর বা তলপেটে ব্যথা
  • গর্ভধারণে অসুবিধা (আকার ও অবস্থানভেদে)

কেন হয়?

সঠিক কারণ পুরোপুরি জানা নেই, তবে হরমোন (ইস্ট্রোজেন) এবং বংশগত প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। মেনোপজের পর সাধারণত ফাইব্রয়েড ছোট হয়ে আসে বা সমস্যা কমে যায়।

নির্ণয়

সাধারণত আল্ট্রাসনোগ্রামেই ফাইব্রয়েড শনাক্ত করা যায়। প্রয়োজনে MRI বা অন্য ইমেজিং করা হতে পারে।

চিকিৎসা — সবসময় অস্ত্রোপচার লাগে না

চিকিৎসা নির্ভর করে লক্ষণের তীব্রতা, ফাইব্রয়েডের আকার/অবস্থান, এবং ভবিষ্যতে গর্ভধারণের ইচ্ছার উপর:

  • লক্ষণ না থাকলে: শুধু নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, কোনো চিকিৎসা ছাড়াই
  • হালকা লক্ষণে: ওষুধ দিয়ে রক্তস্রাব ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ
  • বড় আকারে বা তীব্র লক্ষণে: ফাইব্রয়েড অপসারণ সার্জারি (মায়োমেক্টমি) — জরায়ু রেখে শুধু ফাইব্রয়েড ফেলে দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে গর্ভধারণের ইচ্ছা থাকলে বেছে নেওয়া হয়
  • তীব্র জটিল ক্ষেত্রে: প্রয়োজনে জরায়ু অপসারণ (হিস্টেরেক্টমি) বিবেচনা করা হয়, সাধারণত যাদের আর সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা নেই তাদের ক্ষেত্রে

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ফাইব্রয়েড কি ক্যান্সারে রূপ নেয়?
অত্যন্ত বিরল। প্রায় সবসময়ই এটা সৌম্য থেকে যায়।

ফাইব্রয়েড থাকলে কি গর্ভধারণ সম্ভব না?
সম্ভব, তবে আকার ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে কিছু ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে — চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

সব ফাইব্রয়েডেই কি অস্ত্রোপচার লাগে?
না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ না থাকলে শুধু পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট।

সারসংক্ষেপ

ফাইব্রয়েড নির্ণয় হলে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই — এটা সাধারণত সৌম্য এবং ব্যবস্থাপনাযোগ্য। লক্ষণ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে, ব্যক্তিগত পরামর্শের বিকল্প নয়।

এই ওয়েবসাইটের তথ্য কেবল সাধারণ সচেতনতার জন্য। চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।

আপনার জন্য সঠিক পরামর্শ নিন

নাম ও মোবাইল নম্বর দিন — আমাদের টিম যোগাযোগ করে সিরিয়াল নিশ্চিত করবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট হোয়াটসঅ্যাপ কল করুন